সূস্থ্য ও ভাল আছেন সবাইকে
নিয়ে আশা রেখে শুরু করছি আজকের বিষয়।
আজ লিখছি, “আমড়ার পুষ্টি উপাদান ও স্বাস্থ্য উপকারিতা (Nutrition and Health Benefits of Hog Plum)”
শুরুতেই জানব- ঃ- আমড়ার পুষ্টি উপাদান (Nutrition of Hog Plum) -ঃ
আমড়া এক প্রকার মাঝারি আকারের পর্ণমোচী বৃক্ষের ফল, যার বৈজ্ঞানিক নাম Spondias Pinnaata Kurz বা Spondias Mombin, ইংরেজি
নাম Hog Plum. কাঁটাযুক্ত বীজের এই ফলের গাছটি ২০ থেকে ৩০ ফুট উঁচু হয়। কাঁচা
অবস্থায় আমড়া টক বা টক মিষ্টি হয়, তবে পাকলে টকভাব চলে যায়। আমড়া কাঁচা ও পাকা
রান্না করে, আচার বানিয়ে অথবা শখের বসে রাস্তার পাশের দোকান থেকে কাঁচা চিবিয়ে
খাওয়া হয়।
আমড়া কষ ও অম্ল স্বাদযুক্ত ফল। এতে প্রায় ৯০
শতাংশ পানি, ৪-৫ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট ও সামান্য পরিমাণে প্রোটিন আছে। আমড়ায়
যথেষ্ট পরিমাণে পেকটিনজাতীয় ফাইবার এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট জাতীয় উপাদান আছে।
প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্য উপযোগী আমড়ায় পুষ্টি উপাদান নিম্নরূপ :
খাদ্যশক্তি ৬৬ কিলোক্যালরি, ক্যারোটিন ৮০০
মাইক্রোগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫৫ মিলিগ্রাম, আয়রণ ৩.৯ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি ১০.২৮
মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৯২ মিলিগ্রাম, অন্যান্য খনিজ পদার্থ ০.৬ মিলিগ্রাম, চর্বি
০.১ গ্রাম, আমিষ ১.১ গ্রাম, শর্করা ১৫ গ্রাম।
আমড়ার ৭ পুষ্টিগুণ (Seven Nutrition’s for Hog Plum) :
সবধরনের হেলথটিপ্স ও লাইফস্টাইল জানুন এখানে
Ø অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট
হিসেবে কাজ করে।
Ø রক্ত
জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
Ø বদহজম ও
কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে।
Ø ক্ষুধামন্দা
কাটাতে সাহায্য করে।
Ø আমড়া
পিত্তনাশক ও কফনাশক।
Ø মুখের
অরুচিভাব দূর করে।
Ø আমড়াতে
প্রচুর আয়রণ থাকায় রক্তস্বপ্লতা দূর করতে অধিক কার্যকরী।
আমড়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা (Health Benefits of Hog Plum) :
১। ত্বক সূস্থ্য ও মসৃণ রাখতে আমড়া : আমড়াতে
রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’। ত্বকের ব্রণ কমাতে ও ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে
আনতে খুবই দরকারী একটি ফল। এছাড়াও চুল ও নখের স্বাস্থ্য ভাল রাখে আমড়া। তাই ত্বক,
চুল ও নখের যত্নে আমড়া খান নিয়মিত।
২। অ্যানেমিয়া ও রক্তস্বপ্লতা দূর করতে আমড়া
: আমড়াতে প্রয়োজনীয় আয়রণ থাকার কারণে শরীরে হিমোগ্লেবিনের মাত্রা ঠিক রাখে। ফলে
এটি রক্তস্বপ্লতা দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তাই অ্যানেমিয়া ও রক্তস্বল্পতা
দূর করতে নিয়মিত আমড়া খাওয়া ভাল।
৩। হৃদরোগের যত্নে আমড়া : গবেষণায় প্রমাণিত,
আমড়া শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। কারণ আমড়াতে রয়েছে প্রয়োজনীয়
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। যাদের হার্টের সমস্যা রয়েছে তাঁরা আমড়া খেলে দারুণ উপকৃত হতে
পারবেন।
৪। ওজন নিয়ন্ত্রণে আমড়া : প্রতি ১০০ গ্রাম
আমড়াতে ৬৬ কিলোক্যালরি বিদ্যমান। এছাড়াও প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা খাদ্যআঁশ আছে।
তাই সহজেই আমাদের শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
সবধরনের হেলথটিপ্স ও লাইফস্টাইল জানুন এখানে
৫। আয়রণের অভাব পূরণে আমড়া : প্রতি ১০০
গ্রাম আমড়াতে ৩.৯ মিঃগ্রাঃ আয়রণ উপস্থিত, যা আমাদের শরীরের দৈনিক আয়রণ চাহিদার ১৬
থেকে ৩৫ শতাংশ। হিমোগ্লোবিন থাকে লাল রক্ত কণিকায়। তাই আয়রণ জাতীয় খাবার বেশি খেলে
লাল রক্ত কণিকার উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। আমাদের সারা শরীরে অক্সিজেন সরবরাহকারী আয়রণ
সমৃদ্ধ উপাদান হিমোগ্লোবিন ও মায়োগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখতে আমড়ার ভূমিকা অন্যতম।
৬। ক্যালসিয়ামের অভাব পূরণে আমড়া : আমড়া
ক্যালসিয়ামের একটি ভাল উৎস। শিশুর শরীর গঠনে ক্যালসিয়ামের বিকল্প নেই। আমড়াতে
ক্যালসিয়ামের পরিমাণ ৫৫ মিঃগ্রাঃ। তাই সূস্থ্য সবল মানুষ ও শিশুদের আমড়া খেতে
দেওয়া খুব প্রয়োজন। কারণ ক্যালসিয়ামের অভাবে হাড়ের রোগ, মাংস পেশীর খিঁচুনি ছাড়াও
অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৭। অরুচিভাব দূর ও ক্ষুধা বৃদ্ধিতে আমড়া :
আমড়াতে ভেজষ গুণ রয়েছে। এটি পিত্তনাশক ও কফনাশক, তাই আমড়া খেলে মুখে রুচি ফিরে আসে
ও ক্ষুধামন্দা কেটে যায়।
৮। সর্দি, কাশি ও ইনফ্লুয়েঞ্জা রোধে আমড়া : আমড়া
বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ হতে রক্ষা করে। বিশেষ করে সর্দি কাশি ও ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো
সংক্রমণ রোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তাই আমড়া খাওয়ার অভ্যেস গড়তে পারেন।
সবধরনের হেলথটিপ্স ও লাইফস্টাইল জানুন এখানে
৯। বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে আমড়া : পেটের
বদহজম, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য- এর মতো অস্বস্তিকর রোগ থেকে দূরে থাকতে আমড়া খুব
উপকারি। আমড়াতে রয়েছে বিভিন্ন দ্রবণীয় ফাইবার। এই ফাইবার পাকস্থলির ক্রিয়া
প্রক্রিয়া স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখে।
১০।
ভিটামিন ‘সি’ পেতে আমড়া : আমড়া
ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ একটি ফল। দৈনিক একটি করে আমড়া খেলে শরীরের ভিটামিন ‘সি’ এর
চাহিদার ৩৯ থেকে ৪৯ শতাংশ পূরণ হয়। প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্য উপযোগী আমড়াতে রয়েছে ৯২
মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’। ভিটামিন ‘সি’ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
শরীরের কোলাজেন স্কিন, লিগামেন্ট, টেন্ডন ও কার্টিলেজকে সূস্থ্য ও স্বাস্থ্যবান
রাখতে অবদান রাখে। আর আমড়ার ভিটামিন ‘সি’ ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে আমাদের
শরীরকে রক্ষা করে থাকে। এছাড়াও আমড়া স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রাখে।
পরিবারের সবাইকে নিয়ে আমড়া খাওয়ার অভ্যেস গড়ুন এবং পুষ্টিগুণে সূস্থ্য থাকুন।
বরাবরের মতই ধন্যবাদ জানাচ্ছি,
“সবার জন্য ব্লগ” –এর সাথে থাকার জন্য।
নিজে জেনে অন্যকে জানাতে শেয়ার
করুন।
সবধরনের হেলথটিপ্স ও লাইফস্টাইল জানুন এখানে

0 মন্তব্যসমূহ
Always stay connected with SOBAR JONNO BLOG
সবসময় যুক্ত থাকুন সবার জন্য ব্লগের সাথে।