ঠোঁট ফাটার কারণ ও শীতে ঠোঁটের যত্ন । Causes of Chapped Lips and Lip Care in Winter

 

আস্ সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ!

 

সূস্থ্য ও ভাল আছেন সবাইকে নিয়ে আশা রেখে শুরু করছি আজকের বিষয়।

আজ লিখছি, “ঠোঁট ফাটার কারণ ও শীতে ঠোঁটের যত্ন (Causes of Chapped Lips and Lip Care in Winter)”


ঠোঁট ফাটার কারণ, শীতে ঠোঁটের যত্ন, ঠোঁট ফাটা রোধ করুন চিরতরে, ঠোঁট ফাটা রোধে প্রাকৃতিক উপায়, ঘরে বসে নিজে নিজে ঠোঁট ফাটা দূর করার উপায়, প্রাকৃতিক উপায়ে ঠোঁট ফাটা থেকে মুক্তি, ঠোঁট ফাটার মেডিসিন বা ঔষধ
  ঠোঁট ফাটার কারণ ও শীতে ঠোঁটের যত্ন  । Causes of Chapped Lips and Lip Care in Winter


কাঠবাদামের স্বাস্থ্য উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

দেহের অন্যতম সৌন্দর্যের ও আকষর্ণের জায়গা ঠোঁট। দেহের কোমল ও নরম জায়গার অন্যতম একটি। এই ঠোঁট যদি মসৃণ ও সুশ্রি না থাকে তবে খুবই অস্বস্তিকর ও ইজ্জতহানির ব্যাপার। অনেককে সবসময় ঠোঁট ফাটার যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়। কিন্তু মূলত এই যন্ত্রণার মুখোমুখি হতে হয় শীত মৌসুমে, যা কিনা সব ধরনের মানুষের হয়ে থাকে। যারা সচেতন ও রুচিশীল, তারা ঠোঁট ফাটার হাত থেকে রক্ষা পেতে সজাগ থাকে। কিন্তু যারা এভারেজ জীবন যাপনে অভ্যস্ত তাদের হঠাৎ করেই শীতের আর্দ্রতায় ঠোঁট ফাটা যন্ত্রণায় পড়তে হয়।

 তবে মাত্র কিছু উপায় মাথায় রাখলেই খুব সহজে মুক্তি পাওয়া যায় ঠোঁট ফাটা থেকে।

 

জানিয়ে রাখি, গড়ন অনুযায়ী ঠোঁট-কে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়।

১) পাতলা ঠোঁট ২) পুরো ঠোঁট ৩) ছোট ঠোঁট ৪) চওড়া ঠোঁট


ঠোঁট ফাটার কারণ (The cause of chapped lips) :

ঠোঁট ফাটার কারণ, শীতে ঠোঁটের যত্ন, ঠোঁট ফাটা রোধ করুন চিরতরে, ঠোঁট ফাটা রোধে প্রাকৃতিক উপায়, ঘরে বসে নিজে নিজে ঠোঁট ফাটা দূর করার উপায়, প্রাকৃতিক উপায়ে ঠোঁট ফাটা থেকে মুক্তি, ঠোঁট ফাটার মেডিসিন বা ঔষধ
 ঠোঁট ফাটার কারণ ও শীতে ঠোঁটের যত্ন

 

        চিকিৎসা বিজ্ঞান স্পষ্ট বলছে, ঠোঁট যেহেতু শরীরের অন্যান্য স্থানের ত্বক এর তুলনায় অবিশ্বাস্য রকমের পাতলা ও নরম, এবং এখানে কোনো তেলগ্রন্থি নেই সেহেতু সহজে শুকিয়ে যায় বা যেতে পারে। আবহাওয়ার কারণ, শীতল বায়ু, শুষ্ক বায়ু, ইনডোর হিটিং ও মেয়েদের ব্যবহৃত লিপস্টিকের রাসায়নিক পদার্থের কারণে ঠোঁট শুষ্ক হয়ে ফেটে যায়; যা ঠোঁটের উপরে এক ধরণের ছাল বা আবরণ তৈরি করে। এ কারণে ঠোঁট ফেটে রক্ত বের হতে থাকে ও স্বাভাবিক উপায়ে কথা বা হাসা যায় না।

 

    এছাড়াও নিজের কিছু অভ্যেসের কারণে ঠোঁট ফাটে-

সবধরনের হেলথটিপ্স ও লাইটস্টাইল জানুন এখানে

কাঠবাদামের স্বাস্থ্য উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

 

Ø মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া : যেহেতু হাইড্রেশনের অভাবে ঠোঁট শুষ্ক হয়ে থাকে, তাই যারা নাকের পরিবর্তে মুখ দিয়ে শ্বাস প্রশ্বাস নিয়ে থাকেন তাদের সহজেই ঠোঁট শুষ্ক হয়ে ফেটে যায়। তাই ডাক্তারদের প্রেসক্রাইব মতে, নাসিকা পথ পরিষ্কার রেখে শ্বাস কার্য চলতে সহজ করে রাখুন। ন্যাজাল স্যালাইন স্প্রে অথবা ঘুমানোর আগে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন।

Ø সান প্রটেকশন ব্যবহারে অসতর্কতা : ঠোঁট ফাটার অন্যতম কারণ রোদের অতিবেগুনি রশ্মি। ডাক্তারের মতে, যাদের ঠোঁটে বেশি পরিমাণ রোদ লাগে তাদের কয়েক ধরনের স্কিন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই রোদের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সেফ রাখুন আপনার ঠোঁটকে।

Ø ঠোঁট চাটা : আমাদের অনেকেরই অভ্যেস ঠোঁট শুকিয়ে গেলে জিহ্বার লালা দ্বারা বারবার ভিজিয়ে দিই। এটা খুব সামান্য সময়ের জন্য আরাম দিলেও মারাত্মক ক্ষতি করে ফেলে। নিউেইয়র্ক ডার্মালোজিস্ট ডা. নিল স্যাডিক বলেন, লালাতে এনজাইম থাকে যা ঠোঁটকে শুষ্ক ও ইরিটেট করে দেয়। ফলে ফেটে গিয়ে রক্ত বের হতে পারে।

Ø মানহীন লিপস্টিক ব্যবহার : যাচাই বাছাই ছাড়া বাজার থেকে যেনো-তেনো ধরনের লিপস্টিক কিনে ব্যবহার করলে ঠোঁট শুষ্ক হয়ে ফেটে যায়। তাই ভাল মানের লিপস্টিক কিনুন এবং ব্যবহারের পূর্বে ঠোঁটে ময়েশ্চারাইজিং লিপ বাম ব্যবহার করুন।

Ø বেশি বেশি আকাশপথে ভ্রমণ : জানা আছে, প্লেনের বাতাস খুব বেশি ডিহাইড্রেটিং। স্বাভাবিকভাবেই শুষ্ক হয়ে ঠোঁট ফেটে যায়। তাই আকাশপথে ভ্রমণে লিপ বাম ব্যবহার করুন এবং বেশি করে পানি পান করুন।

Ø নিম্নমানের টুথপেস্ট ব্যবহার : মুখ সতেজ, সজীব ও পরিষ্কার রাখতে অবশ্যই দাঁত ব্রাশ করতে হবে। কিন্তু মানসম্মত টুথপেস্ট বা টুথপাওডার ব্যবহার না করলে ঠোঁট ফেটে যন্ত্রণা দেবে। কিছু টুথপেস্ট ঠোঁটকে ইরটেট করে দেয়। তাই আপনার যদি মনে এই টুথপেস্টের কারণে ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে, তাহলে বদলিয়ে নিন।

Ø ঔষুষের কারণে : অনেক ঔষধ মুখ শুষ্ক করে ফেলে, ফলে ঠোঁটও শুকিয়ে যায়। যেমন : অ্যান্টি-ডিপ্রেস্যান্ট, অ্যান্টিহিস্টামিন, অ্যান্টি-অ্যানজাইটি, ব্যথার ঔষধ ইত্যাদি। এই ধরনের ঔষধ কয়েকদিন পরপর ব্যবহারের ফলে ঠোঁট স্বাভাবিকভাবে ফেটে যেতে পারে। তাই যে ঔষুধে আপনার মুখ শুকিয়ে যাবে সে ঔষুধ খাওয়ার সাথে সাথে লিপ বাম ব্যবহার করুন।

Ø নিয়মিত হট শাওয়ার ব্যবহার : আপনি নিয়মিত হট শাওয়ার নিলে আপনার ত্বকের প্রতিরক্ষামূলক তৈলাক্ততা কমিয়ে ফেলবে। ফলে ঠোঁট ফাটাসহ সমস্ত শরীরের ত্বককে টাইট, শুষ্ক ও চুনকানিযুক্ত করে তুলবে।  

 

শীতে ঠোঁটের যত্ন (Lip care in winter) :

 সবধরনের হেলথটিপ্স ও লাইটস্টাইল জানুন এখানে


নিচের নির্দেশিকা ফলো করে শীতকালে আপনি সহজে আপনার ঠোঁট সুন্দর ও মসৃণ রাখতে পারেন।

 

১। ঠোঁটের যত্নে নারিকেল তেল :

    প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে নারিকেল তেলের জুড়ি মেলা ভার। ঘুমোতে যাওয়ার আগে অল্প নারিকেল তেল গরম করে ঠোঁটে লাগিয়ে সারারাত ঘুমান। আপনার ঠোঁট ফাটা রোধ হবে সহজেই।

 

২। ঠোঁটের যত্নে মধু :

    প্রাকৃতিক রহমত মধু অন্যান্য বিভিন্ন রোগের মহৌষধ যেমন, তেমনি শীতে আপনার ঠোঁটের যত্নেও সমান পারদর্শী। প্রয়োজনমত গ্লিসারিন নিয়ে মধু মিশিয়ে লাগান আর কোমল, মসৃণ ও নরম ঠোঁটে হাসুন।

 

৩। ঠোঁটের যত্নে চিনি :

    চিনিতে থাকা উপাদান ঠোঁটের মৃত কোষকে তুলে ফেলে নতুন কোষ গজাতে সাহায্য করে। এটি স্ক্রাবার হিসেবে কাজ করে।

 

৪। ঠোঁটের যত্নে গোলাপের পাঁপড়ি ও দুধ :

    শীতকালে ঠোঁট ফাটা থেকে মুক্তি পেতে এবং সুন্দর চিকচিকে আবেদনময় ঠোঁট পেতে টাটকা গোলাপের পাঁপড়ি কাঁচা দুধে ভিজিয়ে রাখুন, এটা দিনে ৩/৪বার লাগান, ঠোঁট ফাটবে না।

 

৫। ঠোঁটের যত্নে অ্যালোভেরা :

    শরীরের ত্বকের সব ধরনের উপকারে কার্যকরী ভূমিকা রাখে অ্যালোভেরা। অ্যালোভেরার রস শীতকালে ঠোঁটে লাগান, শুষ্কতার হাত থেকে নিশ্চিত রক্ষা পাবেন।

 

৬। ঠোঁটের যত্নে ঘি :

    সহজলভ্য ও সুঘ্রাণে ভরপুর ঘি নামের এই উপাদানটি ঠোঁটে লাগান। শীতে ঠোঁট ফাটা থেকে নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন।

সবধরনের হেলথটিপ্স ও লাইটস্টাইল জানুন এখানে

কাঠবাদামের স্বাস্থ্য উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

 

এছাড়াও বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের ময়েশ্চারাইজার পাওয়া যায়, যেমন ভ্যাসলিন, ভাল মানের এসব ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করেও শীতে আপনার ঠোঁটকে রক্ষা করতে পারেন।

 

আজ রাখছি, বরাবরের মতই ধন্যবাদ জানাচ্ছি, “সবার জন্য ব্লগ” –এর সাথে থাকার জন্য। নিজে জেনে অন্যকে জানাতে শেয়ার করুন।

 

আশা করছি ঠোঁট ফাটার কারণ ও শীতে ঠোঁটের যত্ন (Causes of Chapped Lips and Lip Care in Winter)  লেখাটি কিছু তথ্য উপস্থাপন করতে পেরেছে।


ধন্যবাদান্তে;

    সহকারি প্রধান শিক্ষক, মাস্টার ট্রেইনার, লেখক ও ফ্রিল্যান্সার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ