![]() |
| ব্রণ কি? কেন হয়? ঘরোয়াভাবে মুক্তির সহজ উপায় |
ব্রণ কি? কেন হয়? ঘরোয়াভাবে মুক্তির সহজ উপায়। What is Acne? Why is That? Easy Way to Get Rid of it Domestically
ব্রণ কি (What is Acne) :
ইংরেজি শব্দ Acne Vulgarism বা Acne (ব্রণ)। মানব শরীরের কাটা দাগ, লালচে ত্বক, নডউল, তৈলাক্ত ত্বক, পিম্পল, প্যাপ্যুল ইত্যাদি দেখে চিহ্নিত করা যায়। ব্রণের (Acne) প্রধান পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নিজের আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া বা মানসিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়া। এছাড়া দুঃচিন্তা, ভীতি ও বিষন্নতা অন্যতম কারণ। টিনএজ বয়সের কিছু ছেলে মেয়ে ব্রণের (Acne) সমস্যায় হতাশাগ্রস্থ হয়ে আত্মহত্যা করে বসে। প্রায় ৭.১% মানুষ ব্রণের (Acne) কারণে আত্মহত্যা করে থাকে, সমীক্ষায় প্রমাণিত।
বয়ঃসন্ধিকালে লিঙ্গ নির্বিশেষে টেস্টোস্টেরন এর মতো অ্যান্ডোজেন বৃদ্ধির ফলে ব্রণ (Acne) হয়ে থাকে।
ব্রণ কেন হয় এবং এর প্রভাব (Why Acne Occurs and Its Effects) :
এটা ত্বকের একটি ক্রনিক সমস্যা।
অবশ্যই স্বাভাবিক কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। আমাদের ত্বকের নিচে সিবাসিয়াস গ্ল্যান্ড বা তৈলগ্রন্থি থাকে, বেশি কাজের চাপ সেই সাথে ঘর্মগ্রন্থী বড় হয়ে যাবার কারণে ব্রণের (Acne) সমস্যার সৃষ্টি হয়। সাধারনত বয়ঃসন্ধিকাল, বংশগত কারণে, হজমের গোলমাল বা মদ্যপানের কারণে ব্রণ (Acne) হয়ে থাকে। বয়ঃসন্ধিকালে হরমোনের প্রভাবে ত্বকের সিবেসিয়াস গ্রন্থি অধিক হারে তেল নিঃসরণ শুরু করে। এই তেল বেরিয়ে আসার পথে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে গ্রন্থির ভেতরে জমতে শুরু করে। এক সময় গ্রন্থি ফেটে গিয়ে আশেপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে। তখন ব্যাকটেরিয়া তেলকে ভেঙে টেস্যুতে ফ্যাটি এসিড উৎপন্ন করে। এই ফ্যাটি এসিড ত্বকে প্রদাহ সৃষ্টি করার ফলে দানার সৃষ্টি হয়, এটাকেই ব্রণ (Acne) বলা হয়। ব্রণের (Acne) সাথে জিনের সম্পর্ক ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। শতকরা ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে জেনেটিক সমস্যা দায়ী। ব্রণের (Acne) সমস্যায় সারা পৃথিবীতে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ টিনেজাররা ভোগে। সংখ্যা বিবেচনায় এ রোগের স্থান ৮ম। তরুণদের তুলনায় তরুণীরা এ রোগে বেশি ভোগে। ৩০ বছরের বেশি বয়সীরাও ব্রণের (Acne) সমস্যায় ভূগে থাকে, পরিসংখ্যান বলছে ৪ শতাংশ মানুষ ৪০ এর কোঠায় যেয়েও ভূগে থাকে।
ব্রণ কোথায় হয় (Where Acne Occurs) :
- সবচেয়ে বেশি হয় মুখমন্ডলে।
- ঘাড় পিঠ গলাতেও হয়।
- বুক বা হাত পায়ের ত্বকের উপরিভাগেও হয়ে থাকে।
ব্রণের ক্ষতিকর প্রভাব (Harmful Effects of Acne) :
- স্বাভাবিক ত্বককে অস্বাভাবিক লালচে বা কালচে করে দিতে পারে।
- কিছু ব্রণ (Acne) ত্বককে গর্তে পরিণত করে ফেলে।
- টিনেজারেরা হতাশা ও দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়ে, কেউ কেউ আত্মহত্যা পর্যন্ত করে থাকে।
- মানসিকভাবে মারাত্মক প্রভাব পড়ে থাকে মনের উপরে, যে কারণে সামাজিকভাবে নিজেকে হেয় ভাবতে থাকে ব্রণে (Acne) আক্রান্ত টিনেজারেরা।
- আত্মবিশ্বাসে চরম ঘাটতি দেখা দেয়, ফলে কোনো কাজে স্বাভাবিক মন বসাতে পারে না।
ব্রণ থেকে ঘরোয়াভাবে মুক্তির সহজ উপায় (Easy Way to Get Rid of it Domestically)
জীবনধারাকে প্রাকৃতিকময় করে তুলুন, বাজার থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক মিশ্রণ পদার্থ ব্যবহার বাদ দিন। দেখবেন আপনি সবদিক থেকে খুব ভাল থাবকেন। তাই বেশি করে পানি পান করুন, সবুজ শাক-সব্জি তাজা ফলমূল খান আর নিচের নির্দেশনা ফলো করুন।
মনে রাখবেন, ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক পদ্ধতি-ই শ্রেয়
মধু (Honey) ব্যবহার করুন :
বিধাতার নিয়ামত এই প্রাকৃতিক রহমত মানুষের শরীরের ভেতরে বাইরে পরিশোধন করে থাকে। এ ব্যাপারে কারো সন্দেহ থাকলে ভুল করবেন তিনি। শতশত রোগের প্রতিষেধক হিসেবে যেমন কার্যকর, তেমনি ব্রণের (Acne) ক্ষেত্রেও সমান কার্যকরি। মধুকে প্রাকৃতিক Antiseptic বলা হয়। ব্রণের (Acne) প্রকোপ কমাতে ও দাগ দূর করতে মধুর জুড়ি নেই। খাঁটি মধু আপনার ত্বকে ব্রণের (Acne) যন্ত্রণা থেকে ১০০% মুক্তি দেবে। প্রথমে ফেসওয়াশ দিয়ে ভালভাবে মুখ ধুয়ে নিন, এরপর হাল্কা চাপে আলতোভাবে যেনো মুখ ভেজা থাকে। এখন আঙ্গুলের মাথায় মধু নিয়ে ভেজা ত্বকে ম্যাসেজ করে ১০-১৫ মিনিট রেখে ভাল করে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ২ থেকে ৩ ঘন্টার পূর্বে কোনো প্রসাধনি ব্যবহার করবেন না।
জলপাই তেল (Olive oil) ব্যবহার করুন :
বিধাতার আরেকটি নিয়ামত জলপাই তেল। ত্বক যে ধরনেরই হোক না কেন, শুষ্ক বা তৈলাক্ত। আপনি নিশ্চিন্তে জলপাই তেল ব্যবহার করে ঘরে বসে ব্রণ (Acne) থেকে মুক্তি পাবেন। প্রতিদিন শোবার আগে হাতের তালুতে অলিভ ওয়েল নিয়ে দুহাতের তালুতে ঘষে তেল কিছুটা গরম করে নিন। তারপর এই তেল সমস্ত মুখে ২মিনিট ধরে নিচের দিক থেকে উপরের দিকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ম্যাসেজ করুন। তারপর হালকা গরম পানিতে টাওয়াল ভিজিয়ে অতিরিক্ত তেল মুছে ফেলুন। ব্রণ (Acne) সমস্যাতো দূর হবেই ধীরে ধীরে, সেই সাথে ত্বকের ময়লা ও মেকআপ থাকলেও পরিষ্কারভাবে উঠে যাবে।
গোলাপ জলের টোনার (Rose water toner) ব্যবহার করুন :
আমাদের শরীরের লোমকূপ দিয়ে সবসময় ময়লা ঢুকে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি করে। এর মধ্যে অন্যতম ব্রণ (Acne) সমস্যা। তাই স্ক্রীণ বিশেষজ্ঞদের মতে বাইরে যাওয়ার আগে যদি লোমকূপ বন্ধ করে দেওয়া হয় তবে ব্রণ (Acne) সমস্যা থাকবে না। সে কারণে আপনি গোলাপ জলের টোনার ব্যবহার করুন। পানিতে গোলাপ জল মিশিয়ে ফ্রিজে রেখে বরফ করে নিন, তারপর বাইরে যাওয়ার আগে মুখ ধুয়ে বরফ ভালভাবে মেখে নিন। আবার বাইরে থেকে এসে মুখ পরিষ্কার করে ফেলুন। আপনি ব্রণ (Acne) থেকে ভাল থাকবেন। বরফ করা সম্ভব না হলে তুলোয় ভিজিয়ে মুখে লাগালেও উপকার পাবেন।
ত্রিফলা (Triphala) ব্যবহার করুন :
শেষে যে পদ্ধতিটা বলব, সেটার মূল উপাদান হচ্ছে ত্রিফলা। নিশ্চয় জানেন, ত্রিফলা মানেই তিন ফলের সমষ্টি। এখানে থাকে, আমলকি, হরতকি, বিভিতকি। শুধু ব্রণ (Acne) না, অনেক রোগের ঔষধ এই ত্রিফলা। পেটের বিভিন্ন সমস্যা ও হজমের সমস্যায় দ্রুত কাজ করে ত্রিফলা। ২টি আমলকি ১টি হরতকি ও ১টি বিভিতকি নিন। এগুলোকে ব্লেন্ডারে বা অন্য পদ্ধতিতে গুঁড়ো করে সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন এবং সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে টানা ৩ মাস খান। আপনার ব্রণ (Acne) সমস্যা, পেটের সমস্যাসহ নানান সমস্যা থেকে মুক্ত থাকবেন। প্রাকৃতিক উপাদান বলে নো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। তবে বাজার থেকে কোম্পানির গুড়ো করা এই মিশ্রণ না কেনায় ভাল।
ত্বকে ব্রণ (Acne) হলে প্রতিরোধে করণীয় :
- ব্রণে হাত বা নখ দিবেন না।
- দিনে ২ থেকে ৩ বার হালকা সাবান বা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।
- তৈলাক্তযুক্ত কসমেটিক বা মেকআপ ব্যবহার করবেন না।
- পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে।
- অন্যের ব্যবহৃত জিনিস ব্যবহার করবেন না, বিশেষ করে তোয়ালে বা গামছা।
- মাথা খুশকিমুক্ত রাখতে হবে।
- খাবারের তালিকা প্রোটিন বা ভিটামিনযুক্ত খাবার রাখতে হবে।
- যতটা সম্ভব শাক সব্জি খান এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
- ঝাল মশলাযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে।
- চুলে তেল দিতে সতর্ক থাকতে হবে, এমনভাবে দেওয়া যাবে না যেনো মুখটাও তেলতেলে হয়ে যায়।
- কোল্ড ড্রিংকস মুক্ত জীবন গড়তে হবে, খাওয়া নিষেধ।
- টেনশন করা যাবে না।
- রোদে বের হলে যতটা সম্ভব রোদ এড়িয়ে চলুন।
নিয়মগুলো মেনে চলুন, ইনশাআল্লাহ, কিছুদিন পর আপনি সম্পূর্ণ ব্রণ (Acne) মুক্ত ও সুন্দর ত্বকের অধিকারী হয়ে যাবেন।
আশা রাখছি, “ব্রণ কি? কেন হয়? ঘরোয়াভাবে মুক্তির সহজ উপায়। What is Acne? Why is That? Easy Way to Get Rid of it Domestically ” আর্টিকেল থেকে কিছু তথ্য পেয়েছেন। ভাল থাকুন, অন্যকে জানান। পরামর্শ লিখুন।
লেখক : মসনদ সাগর-
শিক্ষক, মাস্টার ট্রেইনার, লেখক ও ফ্রিল্যান্সার,
by- sobar jonno blog –সবার জন্য ব্লগ ।।।

0 মন্তব্যসমূহ
Always stay connected with SOBAR JONNO BLOG
সবসময় যুক্ত থাকুন সবার জন্য ব্লগের সাথে।